বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী দেশ। এদেশ আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও এর জনসংখ্যা কিন্তু অনেক বৃহৎ। বাংলাদেশের বর্তমান মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ১৬.৫ কোটি।

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়। ১৯৪৮ এর আগে তা শুধু ছিল ভারত উপমহাদেশ। ভারত পাকিস্তান বিভক্ত হওয়ার পরেই শুধু পাকিস্তান নামে পরিচিতি লাভ করে। তারপর ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর বাংলাদেশ নামের একটা দেশ জন্ম হয়। ১৯৭১ বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধে বাংলাদেশের ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হন। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত নানা রকম আন্দোলন-বিক্ষোভ এর মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের প্রেরণায় আমাদের শক্তি যুগিয়েছে । তারপর এ সকল সংগ্রামের পরেই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। বাংলাদেশের মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। ক্ষুদ্র আয়তনে অনেক বেশি লোক বসবাস করে। যার ফলে বাংলাদেশে তৈরী হয়েছে একটি ঘনবসতি দেশ। বাংলাদেশের বর্তমান মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ১৬ কোটি ৫৭ লাখ। এটি বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো এর তথ্য অনুযায়ী। জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম দেশ। অর্থাৎ জনবলের দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম। বাংলাদেশের প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১,১১৬ জন করে বসবাস করে। এজন্য বাংলাদেশ ঘনবসতি দেশ হিসেবে পরিচিত। এটি সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ। কিন্তু কিছু নগররাষ্ট্র এবং দিপাঞ্চল বাদে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ১.৩৩%. যা কিছুটা বেশি।

নারী ও পুরুষ ভেদে

এদেশে নারী ও পুরুষের জনসংখ্যার অনুপাত হচ্ছে ১০২:১০০। এতে বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় এবারের নারীর সংখ্যা বেশি। এদেশের অধিকাংশ মানুষ শিশু ও তরুণ বয়স অনুযায়ী। এদের জনসংখ্যার হার ৬০% পর্যন্ত। ৬৫ বছরের বেশি বয়সের মাত্রা হচ্ছে ৬ শতাংশ যা অতি কম।

উপজাতি ভেদে

বাংলাদেশের মানুষের হচ্ছে ৭২.৩ বছর। এদেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ বাঙালি। বাকি দুই শতাংশ লোক অন্যান্য উপজাতি। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩ টি উপজাতি রয়েছে। তারা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করতে শুরু করেছে। এদের মধ্যে চাকমা উপজাতি হচ্ছে প্রধান।পার্বত্য চট্টগ্রামের অঞ্চলের বাইরে যে উপজাতি গুলো বাস করে তারা হচ্ছে সাঁওতাল ও গারো।

রাষ্ট্রভাষা ভেদে

বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা হচ্ছে বাংলা। এই বাংলা ভাষা আমরা রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি। বাংলা আমাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা। যদি বলা হয় ভাষা আন্দোলন কবে হয়েছিল। তাহলে অবশ্যই বলা হবে ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে। বাংলা আমাদের রাষ্ট্র ভাষা৷ তবে রাষ্ট্রীয় ভাষা বাংলা ব্যবহারের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয় আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য। ইংরেজি হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভাষা।

ধর্ম ভেদে

এদেশে কিছু বিভিন্ন ধর্মের লোক রয়েছে। এরমধ্যে ইসলাম রাষ্ট্রভাষা লোকের সংখ্যা বেশি। মুসলমানের হার হচ্ছে ৯০.৪ শতাংশ । যা সবচাইতে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারপরে অবস্থান করছে হিন্দুধর্ম। হিন্দু ধর্ম ৮.৫ শতাংশ বসবাস করে। যা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জনসংখ্যার দিক দিয়ে। বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ০.৬ শতাংশ এবং খ্রিস্টান ধর্ম ০.৩ শতাংশ বসবাস করে বাংলাদেশ। আরো অন্যান্য গোষ্ঠী ০.১ শতাংশ বসবাস করে। ২১.৪ শতাংশ লোক বসবাস করে শহরাঞ্চলে। আর বাকি ৭৮.৬ শতাংশ লোক বসবাস করে গ্রামাঞ্চলে। বাংলাদেশে এত জনসংখ্যাবহুল হলেও এদেশের জনগণ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। বাংলাদেশ সরকার যথেষ্ট চেষ্টা করছে উন্নয়ন দেশে পরিণত করা। তবে আশা করা যায় আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পৌঁছাবে। দেশের অগ্রগতির হার দ্রুত বেড়ে চলছে।

শিক্ষার হার

আমাদের বিশাল জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে। তাহলে আমরা দ্রুত আরও উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারব। তখন আমাদের জনসংখ্যা বোঝা হবে না বরং জনসংখ্যা শক্তিতে পরিণত হবে। বাংলাদেশের সাক্ষরতার হার দিন দিন বেড়ে চলছে। বাংলাদেশের সাক্ষরতার হার হচ্ছে ৪১ শতাংশ। যা ২০০৫ সালের হিসাব অনুযায়ী। আমাদের উচিত জনসংখ্যার যেন দ্রুত বেড়ে না যায়। সরকারের পদক্ষেপ অনুযায়ী সকল কিছুর মেনে চলা দরকার। বাংলাদেশের শিক্ষার হার বর্তমানে আরো দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এখন মানুষ উচ্চশিক্ষার জন্য আগ্রহী হয়ে পড়েছে দিন দিন। মানুষ এখন আরো আধুনিক হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য মনোবাভ গড়ে উঠছে। আমাদের জয় একদিন হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে