মূলত একটি জীবন বৃত্তান্তকেই সিভি বলা হয়। আমরা কম বেশি সবাই এই সিভি সম্পর্কে শুনেছি। বিশেষ করে যারা কোন ইনস্টিটিউট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়েন তারা এ বিষয়ে ভাল জানেন। আর সবচেয়ে ভালো জানেন যারা চাকরির খোঁজে ব্যস্ত তারা। কেননা কোন কোম্পানিতে বা প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর জন্য আবেদন করতে হলে অবশ্যই এই জীবনবৃত্তান্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা কিভাবে এ সিভি লিখতে হয়। আর কিভাবে লিখলেই বা তা আরো সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়।

তাই আজ আপনাদের সাথে এই বিষয়ে বৃত্তান্ত আলোচনা করব। কিভাবে আপনি আপনার জীবন বৃত্তান্ত টি সুন্দর ভাবে গুছিয়ে লিখবেন এবং আকর্ষনীয় করে তুলবেন। চলুন তাহলে দেরি না করে আমরা কাজের দিকে এগিয়ে যাই।

একটি সিভিতে যা যা থাকতে হবে

নাম ও যোগাযোগের ঠিকানা

একটি সিভি প্রথম অংশে ওই ব্যক্তির পুরো নাম এবং ঠিকানা লিখতে হবে। অবশ্যই সেটা প্রাথমিক যোগাযোগের ঠিকানা থাকতে হবে। কোনভাবেই কোন ডাকনাম বা ছদ্মনাম ব্যবহার করা যাবে না। সনদপত্রে কিংবা ভোটার আইডি কার্ডে যে নাম দেওয়া আছে সেই নামে ব্যবহার করে লিখতে হবে।

ঠিকানার জায়গায় যে ঠিকানাটা লিখবেন সেটা অবশ্যই স্পষ্ট করে এবং সংক্ষিপ্ত আকারে লিখতে হবে। প্রাথমিক যোগাযোগের জন্য অবশ্যই মোবাইল নাম্বার কিংবা ই-মেইল এড্রেসটি দিবেন। যতটা সম্ভব একটি মোবাইল নাম্বার দেওয়ার চেষ্টা করবেন। কোন প্রকার হাস্যকর নাম দিয়ে ইমেইল খুলবেন না। নিজের নাম ব্যবহার করেই ইমেইল একাউন্ট ব্যবহার করবেন। দরকার ছাড়া ফেসবুক আইডি দিবেন না।

ছবি

জীবনবৃত্তান্তে অতীতে যে ছবি ব্যবহার করবেন তার সাম্প্রতিক তোলা ছবি হতে হবে। ছবি তোলার সময় চুল এবং দাড়ি পরিপাটি করে তুলতে হবে। চেহারা যেন স্পষ্ট বোঝা যায়। এমন ছবি ব্যবহার করায় শ্রেষ্ঠ।

পেশাগত লক্ষ্য

সিভিতে উপরের অংশে আপনার পেশাগত লক্ষটি লিখতে হবে। ভাষা যতটা সম্ভব গোছানো এবং সংক্ষিপ্ত আকারে হতে হবে। ইংরেজি ভাষায় যদি সিভিটি লেখা হয় তাহলে অবশ্যই বানান এবং ব্যাকরণ ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে। যে পদে আবেদন করবেন সে তার সাথে সম্পৃক্ত বিষয়বস্তু লিখতে হবে। কাল্পনিক অথবা অপ্রাসঙ্গিক কোন কিছু লেখা যাবে না।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখার সময় সর্বপ্রথম সাম্প্রতিক ডিগ্রী অর্জন লিখতে হবে। তারপর সর্বশেষ মাধ্যমিক শিক্ষাগত যোগ্যতা পর্যন্ত উল্লেখ করতে হবে। আপনি কোন ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করেছেন, কত সালে গ্রাজুয়েশন শেষ করেছেন, কোন বোর্ড থেকে পড়েছেন এবং পাশকৃত সাল সহ লিখতে হবে। আর অবশ্যই ফলাফল সহ উল্লেখ করতে হবে।

পেশাগত অভিজ্ঞতা

যদি উল্লেখিত পদের জন্য কোন অভিজ্ঞতা চাই এবং আপনার যদি অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে অবশ্যই পেশাগত যোগ্যতা উল্লেখ করতে হবে। এজন্য আপনি আগে কোন কোম্পানিতে কত সময় পর্যন্ত কোন পদে কাজ করেছেন এগুলো যুক্ত করতে হবে।

স্বেচ্ছাসেবক মূলক কাজ অভিজ্ঞতা

আপনি যদি কোনো স্বেচ্ছাসেবক মূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকেন তাহলে ওই সংস্থাটির নাম উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি তার সাথে লিখে দিতে হবে কোন পদে কত সময় পর্যন্ত কাজ করেছেন। সবচেয়ে ভালো হয় সব কাজ গুলোর সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করে দেওয়া।

প্রশিক্ষণ

আপনার যদি কোন ইনস্টিটিউট থেকে যেকোনো বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া থাকে তাহলে অবশ্যই সেটা উল্লেখ করে দিবেন। এটি আপনার সিভি বা জীবন বৃত্তান্ত কে আরো সুন্দর করে তুলে।

ভাষা

সাধারণত আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। তাই চাকরির আবেদনের জন্য অবশ্যই সেখানে বাংলা ভাষা উল্লেখ করতে হবে। তবে ইংরেজি ভালো জানা থাকলে ইংরেজি ভাষা উল্লেখ করে দিবেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাংলা ও ইংরেজি ভাষা আবশ্যক থাকে। তাই এ দুটি ভাষা লিখতে হবে।

কম্পিউটার দক্ষতা

যেসব ক্ষেত্রে কম্পিউটার দক্ষতা চাই সেখানে অবশ্যই কম্পিউটারের অভিজ্ঞতা দিতে হবে। এজন্য আপনাকে পূর্ব থেকে একটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। বিশেষ করে মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট ইত্যাদি জানান দক্ষতা উল্লেখ করা ভালো ।

রেফারেন্স

কোন উৎসব পদমর্যাদা ব্যক্তি কে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করা ভালো। অবশ্যই ওই ব্যক্তির নাম, মোবাইল নাম্বার পদবী, কর্মস্থলের নাম উল্লেখ করতে হবে।

স্বাক্ষর

সর্বশেষে আপনাকে আপনার একটি স্বাক্ষর দিতে হবে। অবশ্যই স্বাক্ষরটি স্পষ্ট হওয়া ভালো। সচারাচর সব জায়গায় যে স্বাক্ষরটা ব্যবহার করেন এটি ব্যবহার করবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে