সিংগাপুরে জনশক্তি রপ্তানী: অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এলো থলের বিড়াল!

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিংগাপুরে জনশক্তি প্রেরনে প্রতারণা শীর্ষক সংবাদ দেশের জাতীয় দৈনিক ও একটি টিভি মিডিয়ায় প্রকাশ ও প্রচারের পর এ নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করলে বেড়িয়ে আসে প্রকৃত সত্য ঘটনা। ।প্রকাশিত রির্পোটে সিংগাপুরে জনশক্তি প্রেরনে ৫টি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হলেও বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

 

সিংগাপুরে জনশক্তি প্রেরনে প্রতারণার সংবাদে প্রকাশিত ৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি ছাড়াও সিঙ্গাপুরে কর্মী প্রেরনের সঙ্গে জড়িত আছে আরও ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি।  অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিংগাপুরে যুক্তিঙ্গগত অভিবাসন ব্যয় ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জনশক্তি প্রেরণে সরকারের অনুমোদন আছে বাংলাদেশের মাত্র ১৫টি এজেন্সির।  এসব রিক্রুটিং এজেন্সির কোনটি মন্ত্রনালয়ের শর্ত প্রতিপালন করেনি।

 

গত ১৪-০৭-২০১৫ ইং তারিখে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বেধে দেওয়া নীতিমালার (স্বারক নং -৪৯.০০.০০০০.২৩২.৪২.০১৭.১৫.১২২) ২ নং শর্তাবলির (খ) ও (গ) শর্ত ভঙ্গ করে গত ২০১৫ ইং সন হতে সিঙ্গাপুরে জনশক্তি রপ্তানী করছে। যা সামগ্রিক ভাবে শাস্তিযোগ্য।

 

অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে থলের বিড়াল। দেখা যায়, সিঙ্গাপুরের কর্মী প্রেরণের জন্য সরকার অনুমোদিত এস.ও বা সেন্ডিং অর্গানাইজেশানধারী ১৫ এজেন্সীই সরকারী শর্তের কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে হাজার হাজার কর্মী প্রেরণ করেছেন।  এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রেরনকৃত কর্মীর তালিকা যে কাউকে ভাবিয়ে তুলবে। তালিকা অনুযায়ী দেখা যায়, ১. মেসার্স জিহান ওভারসীজ লিঃ (আরএল-১১০৪), প্রেরণকৃত মোট কর্মী- ৬২,৯৫৬ জন। ২. মেসার্স গ্রুপ এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১১৭৭), প্রেরণকৃত মোট কর্মী-৫৮,৫২০ জন।

 

৩. মেসার্স সৃজিতা ওভারসীজ (আরএল-১০৬৫), প্রেরণকৃত মোট কর্মী-৫৮,৪২৭ জন। ৪. মেসার্স ইউনিক ইস্টার্ণ (প্রাঃ) লিঃ (আরএল-০০২১), প্রেরণকৃত মোট কর্মী-৫৬,০৬১ জন। ৫. মেসার্স সাউথ পয়েন্ট ওভারসীজ লিঃ (আরএল-০৬২২), প্রেরণকৃত মোট কর্মী-২২,০০৮ জন। ৬. মেসার্স পেঙ্গুইন ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-০৩৬৯), প্রেরণকৃত মোট কর্মী-১৩,১৯৮ জন। ৭. মেসার্স ওয়েলটেক এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস (আরএল-১২৫৪), প্রেরণকৃত মোট কর্মী-৩০,৫৩৯ জন। ৮. মেসার্স ওয়াসিস সার্ভিসেস (আরএল-০৯৯৯), প্রেরণকৃত মোট কর্মী-১৭,৯২৫ জন।

 

৯. মেসার্স আরএক্স কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১২৪০), প্রেরণকৃত মোট কর্মী-১৯,৯৭১ জন। ১০. মেসার্স দি গাজীপুর ইয়ার ইন্টারন্যাশনাল (আরএল- ০৮৯১) প্রেরণকৃত মোট কর্মী-৪৯,০১৩ জন। ১১. মেসার্স ব্লুস্টার সার্ভিসেস (আরএল-০৩৭২), প্রেরণকৃত মোট কর্মী-১০,২৮৬ জন। ১২. মেসার্স আল-জান্নাত ওভারসীজ (প্রাঃ) লিঃ (আরএল-০৯২৬), প্রেরণকৃত মোট কর্মী-৮,৪০৪ জন। ১৩. মেসার্স মেরিট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিঃ (আরএল-০৯৩৩), প্রেরণকৃত মোট কর্মী-৯,৩৭৬ জন। ১৪. মেসার্স নাবিস ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সিস (আরএল-০০৩৮), প্রেরণকৃত মোট কর্মী-২,৭৫২ জন এবং ১৫. মেসার্স সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশ সার্ভিসেস (আরএল-০৫৬১), প্রেরণকৃত মোট কর্মী-১,৯৩৫ জন।

 

মন্ত্রনালয়ের অনুমোদিত সিঙ্গাপুরে জনশক্তি প্রেরণক্ষম, ১৫টি এসও’র সকলেরই সিঙ্গাপুরে একজন সনামধন্য লাইসেন্সকৃত রিক্রুটিং এজেন্ট (আরএ) থাকার পরও তাদের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে জনশক্তি না পাঠানোর অভিযোগ আছে।  এসব এজেন্সী ২০১৫ সাল থেকে বিগত ৭ (সাত) বছর যাবত সরকারের নিয়ম-নীতি ও শর্ত ভঙ্গ করে বিভিন্ন সূত্র থেকে আইপিএ বা ভিসা গ্রহণ করে বিএমইটি থেকে বর্হিগমন ছাড়পত্র গ্রহণ করে। যা এসও নীতির বহির্ভূত এবং তথ্য গোপনের সামিল।

 

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী বিধিমালা ২০১৯ (রিক্রুটিং এজেন্ট লাইসেন্স ও আচরণ) এবং ২০১৩ সনের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনের পরিপন্থি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ অপরাধ। অথচ মেসার্স সৃজীতা ওভারসীজ, জীহান ওভারসীজ এবং গ্রুপ এস ইন্টারন্যাশনালের কোন নিজস্ব ট্রেনিং সেন্টার না থাকার পরও কীভাবে এই বিপুল সংখ্যক জনশক্তি সিঙ্গাপুরে রপ্তানী করছে তা বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে।

 

নি:সন্দেহে বাংলাদেশের জন্য সিঙ্গাপুর একটি আকর্ষণীয় শ্রমবাজার। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৬৫ হাজারের মতো বাংলাদেশি কর্মী নিয়োজিত। সেদেশে কর্মীদের বেতনও তুলনামূলক ভালো। শুরুর দিকে সেদেশে একজন কর্মী বেতন পেতেন প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকা।

 

শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের মতে, দেশের কর্মীদের জন্য মানসম্মত এই বৈদেশিক শ্রম বাজার ধরে রাখার স্বার্থে সিংগাপুরে কর্মী প্রেরনকারী ১৫ প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত জরুরী। সেইসঙ্গে অভিযুক্ত এজেন্সীগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি এসও পদ্ধতি বাতিল করে দেশের লাইসেন্সধারী প্রায় ২৬’শ রিক্রুটিং এজেন্সীর জন্যই সিংগাপুরের শ্রমবাজার উন্মোক্ত করে দেওয়ার আহবান জানান।