এটা তো আমরা সবাই জানি যে আমাদের পৃথিবী নিরন্তন সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে। কিন্তু এমন একটা সময় ছিল যখন মনে করা হতো পৃথিবীর বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্র অবস্থিত সূর্য সহ বাকি গ্রহ নক্ষত্র পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। তখন মানুষের একটি বিশ্বাস ছিল পৃথিবী দাঁড়িয়ে রয়েছে চারটি হাতির উপরেআর হাতিগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি বিশাল কচ্ছপের উপর। তাদের এই ভুল বিশ্বাসকে ভেঙ্গে দিয়ে বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপার্নিকাস প্রথম সৌর কেন্দ্রিক সৌরজগতের মতবাদ দিয়েছেন। তার এই মতবাদকে তৎকালীন খ্রিস্টান যাজক গণ গ্রহন করেননি বরং কোপার্নিকাস এর মতবাদ কে প্রচার করার কারণে তার শীর্ষকেনিশংস ভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে।

পরবর্তীতে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও কোপার্নিকাসের এই বক্তব্যকে ব্যাখ্যা করেন তিনি মানুষকে এটা বিশ্বাস করাতে সক্ষম হন যে সূর্য পৃথিবীতে নয় বরং পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। আর শুধু পৃথিবী নয় সৌরজগতের প্রত্যেকটি গ্রহ সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে।

মানব সভ্যতার শুরু থেকেই আকাশ মহাকাশের তারা গুলো মানুষের কাছে রহস্যই ছিল যা শুধু অনুমানেই রহস্য ভেদ করা হতো যে মহাকাশের শেষ কোথায়? টেলিস্কোপ এর আবিস্কার পৌরাণিক অনুমানকে অনেক বেশি যাচাই করতে সক্ষম হয়েছে। যার মাধ্যমে একটি বৈজ্ঞানিক অনুমান করা যেতে পারে আমাদের মহাবিশ্বের বাইরে কি রয়েছে?

চাঁদ

পৃথিবীর সব থেকে কাছের উপগ্রহ হচ্ছে চাঁদ। যেখানে পৃথিবীর মতো কোনো কিছুই নেই। বিজ্ঞানীদের অনুমান এখন থেকে প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর আগে৷ মঙ্গল গ্রহের আয়তনের জিয়া নামের একটি গ্রহ পৃথিবী কে ধাক্কা মারে। গ্রহটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। এই সংঘর্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়া পৃথিবী ও জিয়া গ্রহের অংশ একত্রিত হয়ে পৃথিবীর কোরের মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে আজও পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে যাকে আমরা চাঁদ বলে থাকি।

সূর্য

সূর্য হল আমাদের সৌরজগতের একমাত্র নক্ষত্র। যার তাপের ফলে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব হয়েছে। আর সূর্যের প্রবল মাধ্যাকর্ষণ এর ফলে আমাদের পৃথিবীসহ সৌরজগতের বাকি সকল গ্রহ এবং উপগ্রহ নিজের কক্ষপথে অবস্থান করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের সূর্যের সবথেকে কাছে অবস্থান করছে মারকিউরি বা বুধ।বুধের নেই কোন নিজস্ব উপগ্রহ।২০০৪ সালে নাসা মেসেঞ্জার প্রোবিকে এই গ্রহের উদ্দেশ্যে প্রথম ছেড়েছিল। ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে চার হাজার বার বুধ গ্রহে অনুসন্ধান চালিয়ে ছিল এই মেসেঞ্জার।

শুক্র গ্রহ

এরপরে রয়েছে ভেনিস বা শুক্র গ্রহ। যার আকার ও প্রকৃতি অনেকটাই পৃথিবীর মতো। শুক্র গ্রহ এসিড এর পুরো মেঘে ঢাকা যার কারণে পৃথিবী থেকে এই গ্রহের ভূমির কোন অংশ দেখা যায় না। কিন্তু বিজ্ঞানীরা জানতে সক্ষম হয়েছে এর ভূমিকা রয়েছে অসংখ্য আগনিয় গিরি সংখ্যায় যা অনেক বেশি। প্রতি ১০০ কিলোমিটারের ১৫ টিরও বেশি বড় আগ্নেয়গিরি রয়েছে এই শুক্র গ্রহের ভূমিতে।

মঙ্গল গ্রহ

এবার আমরা জানবো মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে। বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর পরে মঙ্গল গ্রহ এমনে স্থান যেখানে জীব পারে। আর না থাকলেও মানুষ চাইলে মঙ্গল গ্রহকে দ্বিতীয় বাসস্থান বানাতে পারে। তার জন্য দরকার শুধু স্বল্প খরচে মঙ্গলে যাওয়ার ব্যবস্থা করা।

বৃহস্পতি

তারপর আসি আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ জুপিটার মানে বৃহস্পতি গ্রহ।চারটি বড় উপগ্রহ এবং বারটি ছোট উপগ্রহ নিয়ে জুপিটার নিজে একটি সোলার সিস্টেম এর মত। সৌরজগতের সকল গ্রহ একত্রিত করলে জুপিটারের ভরের সমান হবে না। এই গ্রহের মাঝ বরাবর রয়েছে অতি বড় লাল ছাপ। ভয়ঙ্কর ঝড় থেকে চিহ্নটি তৈরি হয়েছে।শুধু এইজন্য টুকুই পৃথিবী থেকে তিন গুন বড়। আনুমানিক ৩০০ বছর ধরেই এই ঝড় বয়েই চলেছে।

শনিগ্রহ

আমাদের পরের যাত্রা হলো শনিগ্রহ। যে একটি গোলাকার বলয়ে ঘেরা যা দেখতে অতি সুন্দর।এই বলয় বরফের সাথে মিলে তৈরী হয়েছে। শনি গ্রহের মাঝ বরাবর ভূমির উপর লক্ষ কোটি কিলোমিটার বিস্তৃত এই বলয়। ৬২ টি উপগ্রহ শনি গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে থাকে। যার মধ্যে সবথেকে বড় উপগ্রহ টি হল টাইটান। যা আমাদের সৌরমণ্ডলের একমাত্র উপগ্রহ যাকিনা বায়ুমন্ডলকে আটকে রাখে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে